ত্বক ও চুলের যত্নে ডিমের ব্যবহার

ত্বক ও চুলের যত্নে ডিমের ব্যবহার

শরীরের উপকারের পাশাপাশি ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও ডিম যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। ডিমের নানা পুষ্টিগুণ আপনাকে ভেতর থেকে স্বাস্থ্যসমৃদ্ধ ও সুন্দর করে তুলতে সাহায্য করবে। যেহেতু ত্বক চুল সব কিছুতেই ডিম ব্যাবহার করা যায় এবং এই উপাদানটি আমদের সকলের বাড়িতে সবসময় থাকেই। তাহলে আসুন জেনে নেই রূপচর্চায় কীভাবে ব্যবহার করবেন ডিম।

ত্বকের যত্নে
. ডিমের সাদা অংশ ত্বকের অতিরিক্ত তেল দূর করে ত্বককে করে তোলে কোমল ও মসৃণ। একটি ডিমের পুরো সাদা অংশ ভালো করে ফেটে নিন। এতে আধা চা চামচ ময়দা ভালো করে মিশিয়ে নিন। মিশ্রণটি মুখসহ গলা ও হাতে লাগান। ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। আপনার ত্বক হয়ে উঠবে তেলমুক্ত ও মসৃণ।

. ডিমের সাদা অংশ আপনার লুকিয়ে থাকা ময়লাও দূর করে থাকে। ডিমের সাদা অংশ ভালোভাবে ফেটিয়ে নিন। এরপর এতে ১ চা চামচ চালের গুঁড়া ও ২ চা চামচ দানাদার চিনি মেশান। মিশ্রণটি মুখসহ পুরো শরীরে লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট ম্যাসাজ করুন। এরপর ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। এতে শরীরে লুকিয়ে থাকা ধুলো-ময়লা দূর তো হবেই, সেই সাথে ত্বক হবে উজ্জ্বল ও মসৃণ।

. একটি ডিমের শুধু সাদা অংশ নিন। এর সাথে মোটা দানার বাদামি চিনি মিশিয়ে নিন। চিনি গলে যাওয়ার আগেই এটা দিয়ে মুখের যেখানে যেখানে ব্লাক-হেডস আছে (বিশেষ করে নাকের চারপাশে) সেখানে আলতো করে ম্যাসাজ করুন। ১০ মিনিট ম্যাসাজ করে কুসুম গরম পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। যদি আপনার ত্বক শুষ্ক হয়ে থাকে তাহলে মুখ ধোয়ার পর হালকা ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।

বলিরেখা রোধের জন্য
ডিমের কুসুম থেকে সাদা অংশ আলাদা করে নিন। মুখ ভালো করে ধুয়ে নিন। একটি তুলোর বল ডিমের সাদা অংশে ভিজিয়ে সেটি মুখে ভালো করে লাগান। ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক ত্বকের রক্ত চলাচল সচল রাখে। এটি ত্বকের বলিরেখা দূর করে ত্বক ক্লিয়ার রাখতে সাহায্য করবে।

ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির জন্য
কিছু বেসনের সাথে ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে নিন। এর সাথে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মেশান। লেবুর রস মিশ্রণের সাথে ভালো করে মেশান। এটি ত্বকে ব্যবহার করুন। শুকিয়ে গেলে পানি দিয়ে ত্বক ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে এটি ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করবে।
চুলের যত্নে
. চুল কোমল ও ঝলমলে করতে ডিমের তুলনা নেই। একটি পুরো ডিম ভালোভাবে ফাটিয়ে নিন। এতে ১ টেবিল চামচ পাতিলেবুর রস ও ২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল ভালো করে মেশান। মিশ্রণটি পুরো চুলে ভালো করে মেখে নিন। ২৫-৩০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর চুল ভালো করে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে আপনার চুল হবে কোমল ও ঝলমলে। যাদের চুল বেশি তৈলাক্ত তারা অলিভ অয়েলের পরিবর্তে টক দই ব্যবহার করতে পারেন।

. আপনি যখনই মাথায় মেহেদি লাগাবেন তার আগে মেহেদির সাথে একটি ডিম দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী রেখে শ্যাম্পু দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। যদি আপনার ডিমের গন্ধ নিয়ে সমস্যা হয় তাহলে ডিমের কুসুম বাদ দিয়ে শুধু সাদা অংশটা ব্যবহার করতে পারেন।

সাধারণ চুলের বৃদ্ধির জন্য : একটি পাত্রে ডিম ফাটিয়ে তাতে কয়েক টেবিল চামচ অলিভ অয়েল দিয়ে ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন। চুলে ও মাথার তালুতে মিশ্রণটি লাগিয়ে ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। এরপর শ্যাম্পু করে ঠান্ডা পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। শুধু ডিম ব্যবহার না করে তাতে অলিভ অয়েল কিংবা টক দই মিশিয়ে নিলে ভালো হয়।

শুষ্ক চুলের বৃদ্ধির জন্য : একটি পাত্রে দুটি ডিমের কুসুম নিয়ে তাতে দুই টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। আধা কাপ পানি নিয়ে ভালো করে মিশ্রণটি তৈরি করুন। পুরো চুলে লাগিয়ে শাওয়ার ক্যাপ পরে ১৫-২০ মিনিট রাখুন। সবশেষে পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। মাসে অন্তত এক বা দুবার এই হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।

তৈলাক্ত চুলের বৃদ্ধির জন্য : উপাদানের পরিমাণ আপনার চুলের লম্বা কেমন তার ওপর নির্ভর করে। পাত্রে দুটি ডিমের সাদা অংশ, এক টেবিল চামচ মধু ও এক টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে মাস্ক তৈরি করে নিন। আঙুল দিয়ে আস্তে আস্তে পুরো মাথা ও চুলে লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট রেখে দিন। শুকিয়ে এলে পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিন। শ্যাম্পু ব্যবহার না করলেও চলবে।

মনে রাখবেন :
১. ডিম দিয়ে তৈরি প্যাক ব্যবহার করে সব সময় ঠাণ্ডা পানি ব্যবহার করবেন। গরম বা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করলে ডিম চুলে জমে লেগে যেতে পারে।
২. মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করুন।
৩. ডিমের প্যাক চুলের জন্য খুবই উপকারি তাই নিয়ম মেনে এই প্যাক ব্যবহার করুন।