যে সকল উপাদান দিয়ে তৈরি হয় কসমেটিকস

সৌন্দর্য ধরে রাখতে কসমেটিকস বা প্রসাধন সামগ্রী দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য উপাদান। নারীদের কাছে কসমেটিক্স এক মহার্ঘ্য বস্তু। প্রসাধন ছাড়া তাঁদের জন্য একটি দিন অতিবাহিত করা দুঃসাধ্য। ব্যবহারের সময় ব্যবহার্য কসমেটিক্স থেকে দারুণ দারুণ সুঘ্রাণ আমাদের মনকে বিমোহিত করে তোলে। অথচ যদি জানা যেতো কী কী উপাদান দিয়ে কসমেটিক্স তৈরি হচ্ছে!

সাধারণত পেট্রোল বা পেট্রোলিয়াম থেকে তৈরি প্যারাফিন উপাদান দিয়ে ক্রিম, লোশন এবং সাবান তৈরি হয়ে থাকে। প্যারাফিন নামের এই গন্ধহীন উপাদানটি ত্বককে মসৃণ করতে সাহায্য করে। তবে তৈরির সময় প্যারাফিনের পরিমাণে একটু এদিক-ওদিক হলেই ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

শ্যাম্পু, টুথপেস্ট ইত্যাদির মতো কসমেটিকস তৈরিতে ‘চিটোসান’ নামের একটি উপাদান কাজে লাগানো হয়। এই চিটোসান-এর প্রধান উৎস চিংড়ি মাছ, কাঁকড়া এবং কিছু পোকামাকড়ের খোসা। বাস্তব জীবনে পারবেন মুখে চিংড়ি মাছের খোসা ঘষতে?

পশুর চর্বি ছাড়া কসমেটিকস তৈরি ভাবাই যায় না। প্রায় সব ধরণের কসমেটিকস তৈরিতেই চর্বি প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। আর সাবান তৈরিতে চর্বি না হলেই নয়।

চিন্তা করুন তো, মাছের আঁশ হাতে নিয়ে ঠোঁটে ঘষছেন, কেমন লাগবে? বাস্তবে চিন্তা করতে খারাপ লাগলেও ব্যাপারটা আসলে তাই ঘটে। এই যে ঠোঁট ভেজা রাখতে আমরা লিপ গ্লস ব্যবহার করি তার পুরোটাই আসে মাছের আঁশটে থেকে। মাছের আঁশ না হলে লিপ গ্লস অসম্ভব।

আমাদের ত্বকের কোষকে দীর্ঘায়ু দান করতে বাজারে অনেক অ্যান্টি-এজিং কসমেটিকস পাওয়া যায়। জেনে অবাক হবেন যে, এই ধরণের কসমেটিকস তৈরিতে কাজে লাগে বিভিন্ন প্রাণীর বীর্য। প্রাণীর বীর্য ছাড়া ত্বকের কোষকে দীর্ঘায়ু দান অসম্ভব।

এখন প্রায় সব লোশনেই অ্যালকোহল থাকে। বডি লোশন থেকে শুরু করে ক্রিম, আফটার শেভ লোশন, চুলে দেয়ার রং বা মাউথওয়াশ সব কিছুতেই। এই অ্যালকোহল ব্যবহারের কারণে ত্বক কখনো কখনো শুকিয়ে ফেটে যায়। অথবা অন্য কোনো চর্ম রোগ দেখা দেয়।

ত্বকে কসমেটিকস মাখার পর যে জ্বালাপোড়াটুকু হয় তার পুরোটাই হয় কসমেটিকসে থাকা অ্যালুমিনিয়ামের কারণে। জ্বালাপোড়া ছাড়াও অন্য আরও অনেক সমস্যাই দেখা দিতে পারে।