‘স্বামী-স্ত্রীর সেক্স ওয়েবক্যামে দেখছেন অন্যরা, এক বিদঘুটে চর্চা’

অনেক মানুষই এতে আসক্ত হয়ে পড়ছেন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা নিজেদের যৌন জীবনটাকে লাইভস্ট্রিমিং করেন। তারা সেক্স করেন এবং তা ওয়েবক্যামে দেখতে থাকেন অন্য কেউ। অন্যের যৌনকর্ম দেখে তৃপ্তি লাভ করার বিষয়টি ভয়উরিজম। যে ভয়উররা অন্যের যৌনতা দেখেন তারা মাঝে মাঝে মন্তব্য করেন।

ইন্টারনেটে এমন ওয়েবক্যাম সাইটের মাধ্যমে ভয়উরিজমের চর্চা চলে। ২০১১ সালে চালু হয় চ্যাটারবেট। বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। চালুর পর থেকে গোটা বিশ্বে এর ব্যবহারকারী বেড়েছে ৩২০০ শতাংশ। যারা দেখতে ইচ্ছুক তারা বিনামূল্যে বা মূল্য প্রদান করে অন্যের লাইভ সেক্স দেখতে পারেন। এমনকি অর্থের বিনিময়ে বিশেষ ভঙ্গিতে যৌনকর্মও দেখতে পারেন তারা।

ব্লগার রেবেকা ডেন জানান, সম্প্রতি তিনি প্রথমবারের মতো স্বামীর সঙ্গে তার যৌনকর্মকে লাইভস্ট্রিমিং করেন। একান্ত ব্যক্তিগত জীবনের কাজ গোটা বিশ্ব দেখছে, এ বিষয়টি ভিন্ন অভিজ্ঞতা দেয় বলেই জানান তিনি।

এ এক বিদঘুটে দুনিয়া। এই সোশাল প্লাটফর্মে মানুষ সম্পর্ক গড়ে তোলে তার দর্শকদের সঙ্গে। অনেক সময় সেক্স চলাকালে মেসেজের আদান-প্রদান হয়। তবে অধিকাংশ মন্তব্যই সম্মান বজায় রেখে করা হয়। অনেক সময়ই দেখা যায়, দর্শক অন্যের যৌনকর্ম দেখা অবস্থায় স্বমেহন করেন। অনেক মানুষ বিভিন্নভাবে যৌনকর্ম দেখতে পছন্দ করেন। তারা বলেন কিভাবে দেখতে চান। আবার অনেক জুটি এসব শুনতেই পছন্দ করেন। দর্শক যেভাবে দেখতে চান, তারা সেভাবে করতে আগ্রহী থাকেন।

অনেক জুটি এ কাজ করতে পয়সা নেন। তবে এর মাধ্যমে পয়সা কামানোর ইচ্ছা নেই রেবেকা এবং তার স্বামীর। তারা ক্যামেরায় মজা করার কথা চিন্তা করেই এমন করছেন। তবে পরে হয়ত পয়সা নেবেন। প্রথম রাতে তারা ফ্রি করেছেন। এ পর্যন্ত মাত্র ৬ পাউন্ড কামিয়েছেন। ইতিমধ্যে রেবেকার ৩৮০ জন দর্শক তৈরি হয়ে গেছে। তবে যারা শীর্ষে আছেন, তারা প্রতিরাতে হাজার হাজার পাউন্ড কামিয়ে নেন।

দর্শকদের বিভিন্ন মন্তব্য আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায় বলে জানান রেবেকা। এ এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। আমাদের যৌনতা দেখে সম্পূর্ণ অপরিচিতরা বিভিন্ন ভালো ভালো মন্তব্য করছেন, দেখতে ভালোই লাগে।

যেহেতু অনেক মানুষ এতে যোগ হচ্ছে, কাজেই বোঝা যায়, এর জনপ্রিয়তাও বাড়ছে।
সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট